সফলতার গল্প

যেভাবে নিজেকে বদলাবেন সুন্দর জীবনের জন্য । একটু মটিভেশন নিন এটি থেকে।

By Sadik

April 14, 2020

মানুষের অভ্যাসই মূল চরিত্র কিংবা মৌলিকতা। অভ্যাস বদলে গেলে মানুষ বদলে যায়  এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আপনি কিভাবে নিজেকে বদলাবেন? অল্প অল্প করেই আপনি আজ যেখানে আছেন অভ্যাসটা গড়ে উঠেছে হয়তো আপনি সামান্য খারাপ কিংবা তার চাইতে বেশি খারাপ।  অথবা হয়তো আপনি খুবই ভালো। আরো ভালো হবার চেষ্টায় নিজেকে বদলাবেন ? বদলে যাওয়া একটি ঘটনার নাম মাত্র। মানুষ বদলায় নানান সময় নানান কারণে বদলে যাই । খুব বেশি রাত করে ফেরা লোকটা ওকোন এক সময় বদলায়, যখন বদলাই তখন বেলা শেষ হয়ে যায়।মানুষের আর কত বয়স হয় ।খুব বেশি হলে ৬৫-৭৫! আসুন জেনে নেওয়া যাক অভ্যাস পরিবর্তনের ধারা আপনি নিজেকে কতটা বদলাবেন।

নিজেকে বদলাবেন কেন?

ব্যক্তিত্ব আর মনুষত্ব হচ্ছে একজন ব্যক্তির প্রথম ও প্রধান আলোচনার বিষয় । কোন মানুষের জন্য যদি আলোচনা করতে হয় তখন কি কি নিয়ে আলাপ করবেন। আচারন,কার্যকলাপ এবং ব্যক্তিগত দিকগুলোই। ভাই আপনি নিজের জন্য যেটা করবেন সেটা জন্য হয় ভদ্র এবং উন্নত এক আলাপ এর বিষয়। এমন কিছু নয় যেটা শুনে মানুষ হাসবে।এছাড়া আপনি নিজেকে বদলাবেন আপনার নিজের জন্যই। আপনার ভালো এবং আপনার উন্নতির জন্যই ।

নিজেকে বদলাতে কি কি করবেন?

আপনি যদি বদলাতে চান নিজেকে তাহলে বদলানো যায়। আমরা আমাদের জীবনের কথা ভেবে সব সময় ভালো কিছু করাই হচ্ছে প্রথম এবং প্রধান কাজ । ভালো কিছু বলতে আমরা কি বুঝি। একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কিংবা জীবনে উন্নতি করার জন্য বিশেষ কয়েকটি ব্যাপার দরকার হয় , এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে ।

বদ অভ্যাস ত্যাগ করাঃ

বদ অভ্যাস হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচাইতে খারাপ দিক। এক এক জনের  এক এক রকমের বদ অভ্যাস থাকে। কেউ সিগারেট পান করেন , কেউ মদ পান করেন  অথবা অনেকেই অনেক রাত করে বাড়িতে ফেরেন।কিছু লোক আছে শুধুমাত্র বলার আর কাজের প্রতি তাদের অনেক অনেক। এটাও এক ধরনের বদ অভ্যাস। এসব ত্যাগ করা হচ্ছে ইচ্ছার ব্যাপার। নিজেকে পরিবর্তনের জন্য এটি সবচাইতে বেশি জরুরি।

আরও জানুন কিভাবে অভ্যাস পরিবর্তন করবেন? জেনে নিন কিছু কাজ অভ্যাসে পরিণত করার পদ্ধতি।

পরিশ্রমী হয়ে উঠুনঃ

পরিশ্রম হচ্ছে সৌভাগ্যর একমাত্র চাবি। এটা অনেকবার পড়েছেন, যারা আপনার আশেপাশে সাফল্য অর্জন করেছে তাদেরকে আপনি জিজ্ঞাসা করে দেখবেন তারা কতটা পরিশ্রম করে সফল অর্জন করেছে। অনেক সময় আমরা স্কুলে বলে থাকি যে এই ছাত্র ছাত্রী টি অনেক বেশি মেধাবী কিন্তু আমরা সব সময় তাদের সামনে টি দেখে দেখে , আমরা এটা কখনো দেখি না যে সে কত পরিশ্রম করে এ পর্যায়ে এসেছে সে যতটা মেধাবী হইতে বেশি পরিশ্রম এতে কোন সন্দেহ নেই। পরিশ্রম ছাড়া কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। আর আপনি যদি পরিশ্রম হয়ে ওঠেন তাহলে আপনার পক্ষেও সব কিছু করা সম্ভব হবে। সুতরাং দেরি না করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিশ্রম শুরু করে দিন।এখানে হয়তো আপনি ভাববেন জামি ২ ঘন্টা কাজ করেছি আজকে আমি অনেক বেশি পরিশ্রম করে ফেলেছি , তবে আপনি যদি এটি ভাবেন তাহলে পরিশ্রমের সংজ্ঞাটি শুনে নিনঃপরিশ্রম এতটা করা উচিত যে ওই কাজটি ছেড়ে দেওয়ার পরে আপনি আর অন্য কোন কাজ করার মত শক্তি পাবেন না এটা সে পরিশ্রম।

সুস্থ থাকার চেষ্টা করুনঃ

সুস্থ থাকার চেষ্টা বলতে যেসব কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে থাকে সেসব দিক গুলো কে এড়িয়ে চলা। যেমন হাত পা পরিষ্কার করার ফলে অনেক ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যায় ।খাবার আর ব্যায়াম করার ফলেও অনেক ধরনের অসুখ বিসুখ থেকে রেহাই পাওয়া যায় । কেবলমাত্র অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন না এখন তা করবেন না। নিয়মিত কোন ডাক্তার কে দেখান আর নিজের চেকআপ করে নিন ।রোগ দেখা দেওয়ার আগেই দেখে নিন কোন রোগ আছে কিনা । যদি কোন রোগ দেখা যায় তাহলে খুব সহজে নিরাময়ের চেষ্টা করা যাবে । যদি প্রতিদিন এ ১০ মিনিট ধরে কোন কিছু করতে পারেন তাহলে আপনি এক বছরে ৩৬৫০ মিনিট যা মোট ৬০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। আপনি যদি 8 ঘণ্টা করে কোন অফিসে কাজ করেন তাহলে এই সময় আপনার সাত দিন বাস করা সমান হবে।তাহলে আপনি ভবন সাত দিন যদি আপনি কাজ করতে থাকেন রেগুলার তাহলে আপনি এই সাতদিনে কোন একটি কাজ শেষ করতে পারবেন ।পরিকল্পনা করলে আপনি নিজেকে বদলাতে পারবেন অন্তত প্রতিদিন ১০ মিনিট করে কাজ করলেও।

ধৈর্যশীল হয়ে উঠুনঃ

মানুষের জীবনের ধৈর্য অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।যে কোনো কিছু পেতে হলে মনের জোর নিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয় । আগে কিংবা অন্যান্য খারাপ অবস্থায় ও ধৈর্য ধারণ করতে হয় ।তাই আপনি যদি বড় কোন ধরনের ফলাফল পেতে চান তাহলে আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে কারণ ধৈর্য ছাড়া ছাড়া আপনি বড় কোনো কিছু অর্জন করতে পারবেন না। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে ধৈর্য ধরুন।

বই পড়াঃ

অনেক মজার বই কিংবা সিরিয়াস বই আছে যা আপনাকে সব দেবে, হাসি, খুশ , আনন্দ কান্না ইত্যাদি। আপনি যদি নিয়মিত বই পড়েন তাহলে আপনার অনেক দুঃখ কমে যাবে এবং অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করবে। আপনি জীবনে নতুনত্ব যোগ করতে পারবেন।বর্তমানে আমাদের দেশে বই পড়া কমে গেছে অনেক। এখন বই পড়া চাইতে ফেসবুকে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করে ইয়ং জেনারেশন। তাই মানুষের বোধগম্য কমে যাচ্ছে। আপনি নিজে বই পড়ুন এবং অন্যকে পড়তে সাহায্য করুন।

নিজেকে বদলাবেন কখনঃ

আগেও বলেছি এর নির্দিষ্ট কোন সময় সীমা নেই। আপনি চাইলে যে কোন সময় থেকে নিজেকে  বদলাবেন যেভাবেই সম্ভব।যখন আপনি বুঝবেনআমি যে অবস্থায় আছি এখান থেকে বার হতে গেলে নিজেকে বদলানো প্রয়োজন তখন অবশ্যই নিজেকে বদলাবেন।আর আপনি যদি নিজে কখনো না চান,হলে বাইরে থেকে কেউ আপনাকে বদলাতে পারবে না এটা আপনার উপরই নির্ভর করবে। সুখী জীবনের প্রথম শর্ত হচ্ছে আপনি যেগুলো পেয়েছেন সেগুলো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা। জীবনকে বুঝতে শেখা অনুভব করা , এবং নিজের ভেতরটাকে নতুন করে জানা।

 

পোস্টটি শেয়ার করে রেখে ‍দিন।