NSI সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

এন.এস.আই (NSI) এর পূর্ণ অর্থ কি|NSI পরিচিতি ও NSI এর সাতকাহন বিস্তারিত ভাবে জেনে নিন
All Information about National Security Intelligence (NSI)
NSI কী? কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
NSI এর motto কী?
এন.এস.আই এর সাংগঠনিক কাঠামো কী ধরনের?
এন.এস.আই এর প্রধান কে? তার মর্যাদা কী?
এন.এস.আই এর সহকারী পরিচালকের মর্যাদা কার সমান?
এন.এস.আই এই প্রতিষ্ঠানের কাজ কী?
NSI এর কোন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কী আছে?
NSI Job Circular এ আবেদন করার যোগ্যতা কী?
এন.এস.আই এর প্রিলি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ কেমন?
—————————————————————————————————
NSI পরিচিতি
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (National Security Intelligence) সাধারণত এনএসআই (NSI) নামে পরিচিত। এনএসআই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
আমেরিকার CIA ( Central Intelligence Agency), ভারতের RAW (Research and Analysis Wing), পাকিস্তানের ISI(Inter-Services Intelligence) এর মতো NSI ( National Security Intelligence) হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর প্রধান, জাতীয়, বেসামরিক, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা স্বাধীন এবং বিশ্বমানের গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং এর কর্ম পরিধিও ব্যপক। বিশ্বজুড়ে ১৯টি দেশে ৩৭টি শাখা অফিসের মাধ্যমে বৈদেশিক গোয়েন্দাবৃত্তির মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের কার্যক্রম চলছে।
NSI এর প্রধান কার্যালয়ঃ
এর প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচা, ঢাকা-তে অবস্থিত। ১৯৭২ সালের ২৯শে ডিসেম্বর কেবিনেট মিটিং-এ একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। MENs এটি মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়। এটি স্বাধীন বেসামরিক গোয়েন্দা এজেন্সি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়, সর্বেোচ্চ এবং একমাত্র স্বাধীণ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে এ সংস্থার প্রধান কাজ হলো দেশি-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা, বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠি, পলিটিকাল পার্টি ,ধর্মীয়, সামাজিক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান/গোষ্ঠি এবং সন্ত্রাসী সংগঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ পূর্বক গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি এবং সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ প্রদান ও দেশের জন্য পতি-গোয়েন্দা(Counter-Intelligence against foreign Intelligence Agencies) কার্যক্রম গ্রহণ করা।
এনএসআই সরাসরি বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় বিধায় অন্য কোন সরকারী সংস্থা এ সংস্থার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ সংস্থার কার্যক্রম দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশণা পাওয়ায় সরকারের সাফল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
NSI এর Motto:
NSI এর নীতিবাক্য (Motto) হলো Watch and Listen for the Nation,To protect National security.
গঠন
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি অধিদপ্তর হলেও এসংস্থার মহাপরিচালক/Director General(D.G) এর পদমর্যাদা বাংলাদেশ সরকারের সচিব সমমান।
Director General প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই ম্যাজেট্রেসি ক্ষমতাসহ গ্রেফতারি(পুলিশি) ক্ষমতা প্রাপ্ত। এবং তাঁর এ ক্ষমতা লিখিত আদেশের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের প্রদান করতে পারেন।
সাংগঠনিক কাঠামো
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র সাংগঠনিক কাঠামো ব্যাপক এবং বিশাল। এ সংস্থা বর্তমানে আটটি উইংয়ের মাধ্যমে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেমনঃ
১) বহিঃ উইং (The Directorate of external),
২) সীমান্ত উইং (The Directorate of Border),
৩) অভ্যন্তরীণ উইং (The Directorate of Internal),
৪) নিরাপত্তা উইং (The Directorate of Security), বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের জন্য প্রয়োজনিয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং সরকার ঘোষিত ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তা প্রদান।
৫) প্রশাসন উইং (The Directorate of Administration), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র জনবল ব্যবস্থাপণা এবং গোয়েন্দাবৃত্তি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনিয় লজিস্টিক সার্পোট প্রদান।
৬) প্রশিক্ষণ উইং (The Directorate of Training), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র জনবলের সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান, মানোন্নয়ন এবং সরকারী বিভিন্ন সংস্থাকে গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ।
৭) নগর অভ্যঃ উইং (The Directorate of City
Internal), বাংলাদেশের মহানগরীসমূহে গোয়েন্দাবৃত্তি এবং পতি-গোয়েন্দাবৃত্তি কার্যক্রম। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনিয় কার্যrক্রম গ্রহণ করা।
৮) কাউন্টার টেরোরিজম উইং (The Directorate of Counter Terrorism), টেরোরিস্টদের কার্যক্রম প্রতিরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং কৈদেশিক জন্য এবং প্রয়োজনিয় কার্যrক্রম গ্রহণ করা। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র সবচেয়ে বড় এবং বৃস্তিত উইং এটি এবং এর কার্য-পরিধি ব্যপক ও বিশাল।
আরো পড়ুন: (NSI) প্রিলি,রিটেন/ ভাইবা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ন সাজেশন
মর্যাদার পদক্রমঃ
Director General (সচিব সমমান)
Director (অতিরিক্ত সচিব)
Additional Director (যুগ্ম-সচিব)
Joint Director (উপ-সচিব)
Deputy Director (সিনঃ সহকারী সচিব)
Assistant Director (সহকারী সচিব)
Field Officer
Junior Field Officer (JFO)
Watcher Constable (WC)
Armed Constable (AC)
NSI এর কাজ:
– বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাটি দেশের বাইরের বিভিন্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের,স্থানের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা;
– রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখন্ডতা, জঙ্গি তৎপরতা,বাইরের দেশের হুমকির বিষয়গুলি দেশের ভিতরে ট্যাকল দিয়ে গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করে বিশ্লেষণ করা, প্রয়োজন অনুসারে সরকারকে জানানো;
– সরকারী চাকুরীজীবীদের উপর নজর রাখা;
– যুদ্ধ কৌশল সংক্রান্ত ব্যাপারে সামরিক বাহিনীকে পরামর্শ দেয়া ইত্যাদি;
– রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুরোধে সেনাবাহিনী বা অন্যান্য সামরিক, আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় এবং NSI অফিসারদের মধ্য থেকে বাছাই করে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাধ্যমে Clandestine Operation বা Covert Operation চালানো।
NSI এর প্রশিক্ষণ:
বাহিনীতে চুড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথমে মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হয়।সাধারণত গোপনীয়তা বজায় রেখে প্রশিক্ষণ হয়।চৌকশ এই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দেশে এবং দেশের বাইরে অনেক উচ্চতর ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ হয়। তবে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, ডিজিএফআই’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রশিক্ষণ হয়, তাদের নিজস্ব ফ্যাসিলিটিতে।
NSI Institute:
বর্তমানে ঢাকার ঢাকার ধামরাইয়ে ৯.৫৬ একর জমির উপর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মান করা হচ্ছে, যেখানে এনএসআই সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সদস্যদেরকেও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দিতে পারবে।
NSI এ আবেদন করার যোগ্যতা:
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত পদগুলোতে আবেদনের জন্য পদমর্যাদা অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়। NSI তে সহকারী পরিচালক পদে ৯ম শ্রেণির বেতনকাঠামোতে ১ম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রীধারীরা যোগ দিতে পারে।
NSI এর বেতন কাঠামো:
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বাহিনীতে সম্মান এবং দুঃসাহসিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সদস্যরা সরকারের জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। তবে যারা NSI তে চাকরি করে,অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় বেশি হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। ঝুকিপুর্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে হয় বলে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে এই বিশেষ ভাতা প্রদান করে থাকে।
NSI এর পরীক্ষা পদ্ধতি:
চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হতে প্রার্থীকে প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা তিন ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রিলিমিনারি ১০০ মার্কস এঁর হয়ে থাকে। ২০১৭ সালের প্রিলি পরিক্ষায়ঃ
(a) Bangla – 20 Marks
(b) English – 20 Marks
(c) ICT – 10 Marks
(d) Mathematics – 15
(e) G. Knowledge – 35
আরো পড়ুন: NSI এর পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস
মিলিয়ে সর্বমোট ১০০ মার্কস এর ১০০টি এমসিকিউ থাকলেও ২০১৫ সালে বিজ্ঞান থেকে ৫ মার্কস ও সাধারণ জ্ঞান থেকে ৪৫ মার্কস এসেছিল যেখানে অংক থেকে ২০ মার্কস ছিল। এছাড়া বাংলা থেকে ১০ মার্কস, ইংরেজি থেকে ১০ মার্কস এঁর পাশাপাশি আইসিটি তে ১০ মার্কস ছিল।
লিখিত পরীক্ষা সাধারণত ১০০ মার্কের হয় এবং প্রিলির ফলাফল ঘোষণার পর ৩-৪ দিন পর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে, NSI এবার “চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বাছাই প্রক্রিয়াসমূহ অন্য সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন এবং নিরুপম হতে যাচ্ছে” মর্মে যেহেতু ঘোষণা দিয়েছে, সেহেতু, সাধু সাবধান ! যেকোনো প্রক্রিয়ায় সিলেকশন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। NSI Agent রা যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই তো আসলে প্রস্তুত থাকে।
এনএসআই (NSI)১৩৯৪ পদে নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত সকল প্রশ্ন ও উত্তর |Frequently Asked Questions of NSI JOB Exam |
১) কতগুলো পোস্টে অ্যাপ্লাই করা যাবে?
উত্তর: একাধিক পোস্টে অ্যাপ্লাই করা যাবে না- এমন কথা সার্কুলারে উল্লেখ নেই। তবে পরীক্ষা একই সময়ে অনুষ্ঠিত হলে মাত্র একটাতে অ্যাটেন্ড করতে পারবেন। তাই একটার বেশি পোস্টে আবেদন না করাই উত্তম। কারণ গতবারও এডি এবং ফিল্ড অফিসার পদের পরীক্ষা একই সময়ে হয়েছিল। এখন সিদ্ধান্ত আপনার।২) আমার রেজাল্ট এখনো পাবলিশ হয়নি, আমি কি অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে অ্যাপ্লাই করতে পারবো?
উত্তর: না। পারবেন না। রেজাল্ট পাবলিশ হওয়ার ডেট লাগবে। আপনার রেজাল্ট-ই পাবলিশ হয়নি; ডেট কোথায় পাবেন? সিজিপিএ কত তাও উল্লেখ করতে পারবেন না।
৩) পরীক্ষা ঢাকায় নাকি বিভাগীয় শহরে হবে?
উত্তর: প্রিলি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে হবে। আগেরবার পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে হয়েছে। এবারও তাই হবে। রিটেন ও ভাইবা হবে ঢাকায়।
৪) পরীক্ষার সময় কি জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নেয়া বাধ্যতামূলক?
উত্তর: অ্যাডমিটে লেখা থাকলেও নেবেন, না থাকলেও নেবেন। আপনি পরীক্ষার হলে ঢুকার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র না দেখালে হলে ঢুঁকতেই পারবেন না। সুতরাং জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই সাথে নেবেন। যারা এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট দিয়ে অ্যাপ্লাই করবে, তাদেরকে জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র সাথে নিতে হবে (বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন হিসেবে)। যারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য দিয়েছেন, তারাও জন্ম নিবন্ধন সনদ সাথে নেবেন।
৫) যারা বিবাহিত তারা কি আবেদন করতে পারবে?
উত্তর: জি। পারবেন।
৬) প্রভিশনাল সার্টিফিকেট দিয়ে অ্যাপ্লাই করা যাবে?
উত্তর: অবশ্যই যাবে। ইউ ক্যান অ্যাপ্লাই এভরিহোয়ার উয়িথ প্রভিশনাল সার্টিফিকেট।
৭) ওয়াচার কনস্টেবল-এর কাজ কী?
উত্তর: মনে করেন কোন ভিভিআইপি যাবে কোথাও। নির্দিষ্ট একটা এরিয়া থাকবে, যেটা আপনার দায়িত্বে। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা আপনাকে দেখতে হবে। আর ওয়াকিটকিতে আপনাকে সার্বক্ষণিক জানাতে হবে। এমন অনেক ফিল্ডের কাজ আপনাকে করতে হবে। আপনার কাজের শিডিউল আপনাকে আগেই জানিয়ে দেবে। কমান্ড ফলো করবেন। কুইক সেন্স, ধৈর্য্য, সাহসিকতা থাকতে হবে। অন্য দশজন সরকারি চাকুরীজীবীর মতো এত ছুটি ভোগ করতে পারবেন না।
৮) জুনিয়র ফিল্ড অফিসারে কী এতিম কোটা না থাকলে অ্যাপ্লাই করা যাবে না?
উত্তর: বাগেরহাট জেলার শুধু এতিমরা এবং বাকি ৬৩টি জেলার সাধারণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
৯) জুনিয়র ফিল্ড অফিসারের কাজ কী?
উত্তর: যে কোন তথ্য সংগ্রহে ফিল্ড অফিসারদের হেল্প করা, ফিল্ডে নানান কাজ করা, যাবতীয় তদন্ত সরেজমিনে খতিয়ে দেখা, রিপোর্ট পেশ করা ইত্যাদি। অনেকটা থানার এসআইয়ের মতো কাজ।
১০) কোন পোস্টে অ্যাপ্লাই করবো; কোনটা ভাল হবে?
উত্তর: অনেকগুলো পোস্ট; দুটো পোস্টের কথা বলি। অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর হলো ৯ম গ্রেডের অর্থাৎ ফার্স্ট ক্লাস জব। আর ফিল্ড অফিসার ১০ম গ্রেডের তথা সেকেন্ড ক্লাস জব। আপনার যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী অ্যাপ্লাই করুন।
১১) হাইট, চেস্ট ও কম্পিউটার লিটারেসির কন্ডিশন আছে কি?
উত্তর: অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর (এডি) পদে সবাই আবেদন করতে পারবেন। এই পোস্টে হাইট বা চোখের পাওয়ার নিয়ে কোন শর্ত নেই। এতে কম্পিউটারে দক্ষতার সনদ থাকা বাধ্যতামূলক নয়; তবে থাকলে ভাল হয়। কিন্তু ফিল্ড অফিসার পদে হাইট, চেস্ট ও কম্পিউটার লিটারেসির শর্ত আছে।
১২) ফিল্ড অফিসার ও জুনিয়র ফিল্ড অফিসার পদের জন্য হাইট কত হতে হবে?
উত্তর: পুরুষের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট।
১৩) ফিল্ড অফিসার ও জুনিয়র ফিল্ড অফিসার পদে আবেদনের জন্য চেস্ট বা বুকের মাপ কত হতে হবে?
উত্তর: ৩০-৩২ ইঞ্চি (পুরুষ ও মহিলা উভয়ই)।
১৪) বুকের মাপ (পুরুষ ও মহিলা উভয়েই) ৩০-৩২ ইঞ্চির বেশি হলে কি সমস্যা আছে?
উত্তর: না। সমস্যা নেই।
১৫) কম্পিউটার লিটারেসি কোন পোস্টের জন্য বাধ্যতামূলক?
উত্তর: অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর (এডি) বাদে (থাকলে ভাল), অন্যান্য পোস্টের জন্য কম্পিউটার লিটারেসি বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কম্পিউটার সনদ থাকতে হবে এমন নয়। যেমন- এমএস ওয়ার্ড ওপেন করে কিছু টাইপ করা, টেবিল ক্রিয়েট করা, মেইল সেন্ড (অ্যাটাচমেন্টসহ) এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা ইত্যাদি।
১৬) আমি বিবাহিত; আমি কি আবেদন করতে পারবো?
উত্তর: অবশ্যই পারবেন।
১৭) মেডিকেল টেস্ট কেমন হয়?
উত্তর: ব্লাড টেস্ট (হেপাটাইটিস বি+, ক্যানসার, এইডস), ডোপ টেস্ট করা হয়। এছাড়া আপনার হাইট-ওয়েট এর কম্বিনেশন দেখা হবে। ওভারওয়েটের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কিনা সেটা এখন নিশ্চিত করে বলা যায় না।
১৮) নিয়োগ প্রক্রিয়া কি স্বচ্ছ হয়?
উত্তর: লবিং, রেফারেন্স ও টাকা পয়সা ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়। ফাটাফাটি পরীক্ষা দিয়ে টপে থাকুন। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাকে জিইয়ে রাখুন।
১৯) পরীক্ষা কয় ধাপে হবে এবং কখন হবে?
উত্তর: অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর এবং ফিল্ড অফিসার পোস্টে ৩ ধাপে পরীক্ষা হবে। প্রিলি, রিটেন ও ভাইবা। অন্যান্য পোস্টের জন্য প্রিলির পর ভাইবা হবে।
২০) প্রিলির জন্য কোন বই পড়বো এবং নম্বর বন্টনটা কেমন হবে?
উত্তর: জব সলুশান পড়ুন। মাসিক পত্রিকা (জানুয়ারি ২০১৯-বর্তমান) ও সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের বই পড়ুন। বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী, সংস্থা-সংগঠন, সদস্য সংখ্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গের নাম, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। সাথে বিগত বছরের বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন সলভ করুন। পিএসসি’র নন-ক্যাডার প্রিলি টাইপ কোয়েশ্চেন হবে। প্রিলিতে মোট ১০০ নম্বর থাকবে। যেমন- বাংলা-১০, ইংরেজি-১০, ম্যাথ-১৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলি-২০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি-১৫, দৈনন্দিন বিজ্ঞান-১০, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১০ এবং বুদ্ধিমত্তা যাচাই অভীক্ষা (মানসিক দক্ষতা)-১০ নম্বর। এর ওপর বেইস করে পড়ুন। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। অনেক প্রশ্ন ঘুরে-ফিরে কমন আসবে। টিকতে হলে ভাল মার্কস তুলতে হবে। ৮০+ হলে রিটেনের প্রস্তুতি শুরু করে দেবেন। গতবার ১ সপ্তাহ পরেই রিটেন শুরু হয়েছিল।
২১) প্রিলিতে কি নেগেটিভ মার্কিং আছে?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রিলিতে ০.২৫ করে নেগেটিভ মার্কিং আছে।২২) প্রিলি পরীক্ষা কবে থেকে শুরু হতে পারে?
উত্তর: সার্কুলারের ডেডলাইন থেকে দেড়/দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা হয়ে যাবে। গতবারের পরীক্ষার আলোকে এমনটাই বলা যায়।
২৩) রিটেন পরীক্ষা কখন হবে এবং কিভাবে প্রস্তুতি নেবো?
উত্তর: রিটেনে ইংরেজি ও বাংলা দুই ভার্সনে প্রশ্ন হবে। ডেইলি ইংলিশ পত্রিকা পড়ুন অথবা বিডিনিউজ বা ডেইলি স্টারের মতো পত্রিকার ওয়েবসাইট দেখুন। বিডিনিউজ২৪.কম -তে ইংলিশ নিউজের সাথে বাংলা নিউজের কম্বিনেশন পাবেন। ট্রান্সলেটসহ পড়তে সুবিধা হবে। ম্যাথ বিসিএস রিটেনের মতো আসবে (২/৩ টা থাকতে পারে)। পাটীগণিতের ওপর জোর দেন। গতবার প্রিলির ১ সপ্তাহ পরে লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য কিছু টপিক যেমন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখুন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর ও চুক্তি, বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার নাম, ভিআইপিদের সিকিউরিটি, রিসেন্ট হট ইস্যু (যেমন- কাশ্মীর ইস্যু, ব্রেক্সিট ইস্যু, ইরান-মার্কিন উত্তেজনা, চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ ইত্যাদি) এবং সংবিধান সম্পর্কে ধারণা রাখুন।
২৪) ভাইবা কেমন হয়?
উত্তর: গত ১ সপ্তাহে রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল হট টপিক, নিজের সাবজেক্ট, নিজের কিছু ব্যাড সাইড-গুড সাইড, হবি-এ জাতীয় প্রশ্ন হয়। ভাইবা ইংলিশে হয় (সব পোস্টের জন্য না; বিশেষ করে অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর পদের ভাইবা ইংলিশে হয়)। বাংলাতে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তো বোনাস পেলেন। স্মার্টলি অ্যানসার দেবেন।
All Information about National Security Intelligence (NSI)
NSI কী? কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
NSI এর motto কী?
এন.এস.আই এর সাংগঠনিক কাঠামো কী ধরনের?
এন.এস.আই এর প্রধান কে? তার মর্যাদা কী?
এন.এস.আই এর সহকারী পরিচালকের মর্যাদা কার সমান?
এন.এস.আই এই প্রতিষ্ঠানের কাজ কী?
NSI এর কোন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কী আছে?
NSI Job Circular এ আবেদন করার যোগ্যতা কী?
এন.এস.আই এর প্রিলি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ কেমন?
NSI পরিচিতি
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (National Security Intelligence) সাধারণত এনএসআই (NSI) নামে পরিচিত। এনএসআই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
আমেরিকার CIA ( Central Intelligence Agency), ভারতের RAW (Research and Analysis Wing), পাকিস্তানের ISI(Inter-Services Intelligence) এর মতো NSI ( National Security Intelligence) হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর প্রধান, জাতীয়, বেসামরিক, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা স্বাধীন এবং বিশ্বমানের গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং এর কর্ম পরিধিও ব্যপক। বিশ্বজুড়ে ১৯টি দেশে ৩৭টি শাখা অফিসের মাধ্যমে বৈদেশিক গোয়েন্দাবৃত্তির মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের কার্যক্রম চলছে।
NSI এর প্রধান কার্যালয়ঃ
এর প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচা, ঢাকা-তে অবস্থিত। ১৯৭২ সালের ২৯শে ডিসেম্বর কেবিনেট মিটিং-এ একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। MENs এটি মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়। এটি স্বাধীন বেসামরিক গোয়েন্দা এজেন্সি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়, সর্বেোচ্চ এবং একমাত্র স্বাধীণ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে এ সংস্থার প্রধান কাজ হলো দেশি-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা, বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠি, পলিটিকাল পার্টি ,ধর্মীয়, সামাজিক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান/গোষ্ঠি এবং সন্ত্রাসী সংগঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ পূর্বক গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি এবং সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ প্রদান ও দেশের জন্য পতি-গোয়েন্দা(Counter-Intelligence against foreign Intelligence Agencies) কার্যক্রম গ্রহণ করা।
এনএসআই সরাসরি বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় বিধায় অন্য কোন সরকারী সংস্থা এ সংস্থার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ সংস্থার কার্যক্রম দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশণা পাওয়ায় সরকারের সাফল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
NSI এর Motto:
NSI এর নীতিবাক্য (Motto) হলো Watch and Listen for the Nation,To protect National security.
গঠন
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি অধিদপ্তর হলেও এসংস্থার মহাপরিচালক/Director General(D.G) এর পদমর্যাদা বাংলাদেশ সরকারের সচিব সমমান।
Director General প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই ম্যাজেট্রেসি ক্ষমতাসহ গ্রেফতারি(পুলিশি) ক্ষমতা প্রাপ্ত। এবং তাঁর এ ক্ষমতা লিখিত আদেশের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের প্রদান করতে পারেন।
সাংগঠনিক কাঠামো
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র সাংগঠনিক কাঠামো ব্যাপক এবং বিশাল। এ সংস্থা বর্তমানে আটটি উইংয়ের মাধ্যমে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেমনঃ
১) বহিঃ উইং (The Directorate of external),
২) সীমান্ত উইং (The Directorate of Border),
৩) অভ্যন্তরীণ উইং (The Directorate of Internal),
৪) নিরাপত্তা উইং (The Directorate of Security), বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের জন্য প্রয়োজনিয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং সরকার ঘোষিত ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তা প্রদান।
৫) প্রশাসন উইং (The Directorate of Administration), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র জনবল ব্যবস্থাপণা এবং গোয়েন্দাবৃত্তি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনিয় লজিস্টিক সার্পোট প্রদান।
৬) প্রশিক্ষণ উইং (The Directorate of Training), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র জনবলের সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান, মানোন্নয়ন এবং সরকারী বিভিন্ন সংস্থাকে গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ।
৭) নগর অভ্যঃ উইং (The Directorate of City
Internal), বাংলাদেশের মহানগরীসমূহে গোয়েন্দাবৃত্তি এবং পতি-গোয়েন্দাবৃত্তি কার্যক্রম। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনিয় কার্যrক্রম গ্রহণ করা।
৮) কাউন্টার টেরোরিজম উইং (The Directorate of Counter Terrorism), টেরোরিস্টদের কার্যক্রম প্রতিরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং কৈদেশিক জন্য এবং প্রয়োজনিয় কার্যrক্রম গ্রহণ করা। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’র সবচেয়ে বড় এবং বৃস্তিত উইং এটি এবং এর কার্য-পরিধি ব্যপক ও বিশাল।
মর্যাদার পদক্রমঃ
Director General (সচিব সমমান)
Director (অতিরিক্ত সচিব)
Additional Director (যুগ্ম-সচিব)
Joint Director (উপ-সচিব)
Deputy Director (সিনঃ সহকারী সচিব)
Assistant Director (সহকারী সচিব)
Field Officer
Junior Field Officer (JFO)
Watcher Constable (WC)
Armed Constable (AC)
পোস্টটি শেয়ার করে রাখুন